মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এ দেশের ইসলাম প্রিয় ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী মানুষের অনেক ত্যাগ ও আন্দোলনের ফসল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর অতীত প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। দেশ স্বাধীন হবার পর বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের তরফ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উচ্চারিত হতে থাকে। স্বাধীনতার পরপরই ইসলামের বিভিন্ন শাখঅর উপর গবেষণা এবং প্রকাশনার লক্ষে তাৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশে উচ্চতর ইসলামী-শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পঠন-পাঠনের জন্য 1979 সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বৃহত্তর কুষ্টিয়া যশোর জেলার শান্তিরডাঙ্গা-দুলালপুরে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে প্রথম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরের বছর ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এরপর ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ড.এ.এন.এ. মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রথম উপাচার্য নিয়োগ করা হয় এবং দুটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে মোট ৩০০ জন ছাত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্র শুরু হয়। এরশাদ সরকার ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের এর আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীজুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করেন। শুরু হয় আন্দোলন। এ আন্দোলনে কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী নেতা গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। প্রবল আন্দোলনের এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারী মন্ত্রীসভার বৈঠকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুর থেকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সরকারের এক আদেশ বলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে স্থানান্তর করে বিকল্প ব্যবস্থায় কুষ্টিয়া শহরের পি.টি.আই ভবনে ধর্মতত্ত্ব এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং শহরের অন্যান্য ভবনে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে একযোগে আরো ৫টি নতুন বিভাগ প্রবর্তিত হয়। সাধঅরণ ছা্ত্রদের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো ছাত্রী ও ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির রেওয়াজ চালু করা হয়। ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ঠিকানায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সেই সাথে উচ্চতর ডিগ্রী প্রদানের জন্য ১৯৯৩ সালের দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ.ফিল এবং পি-এই.ডি কার্যক্রম শুর হয়। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার ২০১০ সাল হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩১টি মাদ্রাসায় ৫টি বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলর অনুমতি প্রদান করে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি হিসেবে এ পর্যন্ত ২৫৫ জনকে এমফিল এবং ১৫৮ জনকে পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদ, ২২টি বিভাগ, ১টি ইনস্টিটিউট, প্রায় ১১ হাজার ছাত্র-ছাত্রী, ৩৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ৩০০জন কর্মকর্তা, ১৭৯জন সহায়ক কর্মচারী, ২৯২জন সাধারণ কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫ একর আয়তনের এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আছে ১টি তিনতলা প্রশাসনিক ভবন (আরও একটি পঞ্চমতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মানাধীন), ৪টি ছাত্র হল, ২টি ছাত্রী হল ও একটি ছাত্রী হল (শেখ হাসিনা হল) নির্মাণাধীন, ১টি অত্যাধুনিক মিলনায়তনসহ ছাত্র শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি), ভাইস চান্সেলরের বাসভবনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, স্বাধীনতা ও মুক্তযেদ্ধের স্মারক ১টি মুক্ত বাংলা, ১টি শহীদ মিনার, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত শহীদের স্মারক শহীদ স্মৃতিসৌধ ১টি মসজিদ, ১টি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ। সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নির্মানাধীন রয়েছে “ড. ওয়াজেদ মিয়া” দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন। এছাড়াও ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে একটি ডাকঘর ও ইবি থানা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাবিদ্যাপীঠটি এখন এ অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধান অবদান রেখে চলেছে।