মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

প্রশাসনকে  পল্লীর জনগণের দোর-গোড়ায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা বাংলাদেশের নতুন নয়। ঔপনিবেশিক মন মানসিকতা  অর্থ ও উপযুক্ত কর্মকর্তার অভাব ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে এই চিন্তা ভাবনা অনেক কাল অবধি কার্যকরী করা যায় নি। এবং বলা যায় যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশাসন জেলা বড় জোর মহুকুমা পর্যন্ত থেমে ছিল। থানাতে না ছিল কোন  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, না ছিল কোন উন্নয়ণ কর্মকান্ড। যে কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন তাদের কার্য পরিধি ছিল আইন শৃঙ্খলা ও  কর আদায়ে সীমাবদ্ধ। ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশে এ ব্যবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। থানা পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলো বটে তবে প্রধান ভূমিকায় ছিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন করা। কুমিল্লাস্থ বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ আখতার হামিদ খান  প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (টি,টি,ডি,সি) গঠনের প্রস্তাব দেন। সর্বোপূরি থানাকেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে চিহ্নিত করেন। সে মোতাবেক ’৬০ও’৭০ দশকে প্রতি থানায় থানা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (টি,টি,ডি,সি) গঠন করা হয় এবং বিভিন্ন জাতি গঠন মূলক দপ্তরের কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে একটি থানা সেক্রেটারিয়েট গঠনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু এসব সত্ত্বেও এ পর্যায়ে বেশকিছু দুর্বলতা থেকে যায়ঃ-

১। থানা পরিষদ (বা থানা কাউন্সিল) সরকারী কর্মকর্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থেকে যায় এবং কোন নিজস্ব আয়ের উৎসও এতে ছিল না এবং এর কাজ ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধনে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

 

২। থানায় পর্যাপ্ত পরিমান কর্মকর্তা পাঠানো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি এবং যে সব অফিসার থানায় ছিল তাদের বেশির ভাগই ছিল অদক্ষ এবং নিম্ন পর্যায়ের।

 

৩। থানা পরিষদ পর্যায়ে জাতীয় সরকারের সাহায্যের পরিমাণ ছিল অপ্রতুল এবং এর ব্যবহারের উপর স্থানীয় কর্তৃত্বের পরিবর্তে জেলা/ মহকুমা পর্যায়ের কর্মকর্তার কর্তৃত্বই প্রবল থেকে যায়। এর ফলে উন্নয়নের সুফল পল্লীবাসীদের কাছে অতীতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এই পটভূমিতেই সরকার ১৯৮২ সালে ঔপনিবেশবাদী বৃটিশ সরকার রেখে যাওয়া ঘুণে ধরা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসন ব্যবস্থায় দেশপোযোগী ও সময়োপোযোগী সংস্কার সাধন করেছে। অন্যান্য সংস্কারের মধ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে সর্বমহলের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সারাদেশের প্রাক্তন থানা পরিষদগুলোকে উন্নীত করে উপজেলায় রূপান্তরীত করেছেন। এই উপজেলাগুলো হল উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তখন থেকে উপজেলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে সব রকম উন্নয়ন উদ্যোগ। ইতোমধ্যেই উপজেলা প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং সব রকম উন্নয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উপজেলাকে দেয়া হয়েছে।